twitter



তোড়সে ব্যাট চালিয়ে লাঞ্চ আওয়ারে প্যাভিলিয়নে ফিরল এক ব্যাটসম্যান। সবাই তাকে বাহবা জানাচ্ছে, ফুর্তির চোটে বেশ খানিকটা ড্রিঙ্ক করে ফেলল সে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবিষ্কার করল সবকিছুই সে তিনটা করে দেখতে পাচ্ছে। মহা মুশকিল! উপায়ন্তর না দেখে মাঠে যাওয়ার আগমুহূর্তে কোচকে ব্যাপারটা খুলেই বলল সে। কাঁদো কাঁদো মুখে বলল, এখন কী করব আমি, সামনে তিনটা বল ছুটে আসছে দেখলে কোন বলটা পেটাব? কোচ তাকে ধমকাধমকি না করে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, অসুবিধা নেই, তিনটা বল ছুটে আসতে দেখলে তুমি ঠিক মাঝখানের বলটাকেই পেটাবে! ঠিক আছে?

ব্যাটসম্যান মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়ে ফিরে গেল মাঠে। এবং প্রথম বলেই বোল্ড! প্যাভিলিয়নে ফিরে আসতেই কোচ চেঁচামেচি শুরু করল, আমি তোমাকে না বলেছিলাম তিনটা বলের মাঝখানের বলটা পেটাতে! ব্যাটসম্যান আরো কাঁদে কাঁদো মুখে বলল, ওটাই তো পিটিয়েছিলাম ! কিন্তু তিনটা ব্যাটের ডানদিকের ব্যাটটা দিয়ে পিটিয়েছিলাম যে!


আঠারশো শতকের কোন এক সময় ক্রিকেট খেলায় ব্যাটসম্যান ডেনিস লিলি টাইপের বলে খিইচ্যা আতাইল্যা ব্যাট চালাইয়া শরীরের ভারসাম্য আর রক্ষা করতে না পেরে পিছলা খেয়ে পড়ে গেলো ক্রিজে আর বল সোজা স্ট্যাম্পস উপড়ে ফেলে চলে গেছে কীপারের হাতে। আউট!!!

ফিল্ডাররা যখন আউট উদযাপনে ব্যস্ত, সহযোদ্ধা ব্যাটসম্যান দলের বিপর্যয়ে চোখ বন্ধ করে প্রার্থনারত, আম্পায়ারদ্বয় নিজেদের ওয়াইফ নিয়ে ‘বীচিং’-এ মগ্ন, আউট হওয়া ব্যাটসম্যান তখন মাটিতে পড়ে থাকা ব্যাটখানা বগল দাবা করে প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা শুরু করলেন।

বাউণ্ডারী লাইনের কাছে এসে হঠাতই কোন এক ফিল্ডারের চিতকার কানে এলো তার। কী ব্যাপার, আউট হওয়া ব্যাটসম্যানকে আবার ডাকে কেনো? খুব বিরক্তিভরে পেছন ফিরে তাকালেন। এক কামান গালি ছুড়তে যাবেন অমনি তাকিয়ে দেখেন এক আম্পায়ার তারদিকে ভুড়ি দুলিয়ে দৌড়ে আসছেন আর বলছেন, “আরে করছো কি!! দিয়ে যাও বলছি, দিয়ে যাও…”!

একেতো মনের ক্ষেদ তারওপর পেছন থেকে ডাকাডাকি! আম্পায়ারের মাথা বরাবর বারি দেবার জন্য বগলের ব্যাটটা রেডি করতে গিয়ে বেচারা ব্যাটসম্যান সামনে তাকিয়ে দেখেন ক্রিজে তার ব্যাট পড়ে আছে, মানে ব্যাটের বদলে পড়ে থাকা স্ট্যাম্প বগলে নিয়ে হাঁটা দিয়েছেন বাল্লেবাজ মহাশয়!


স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সময়ের একটা ম্যাচের কথা। তখন ক্রিকেটের অনেক নিয়ম কানুনই পাকাপোক্তভাবে আসেনি। অস্ট্রেলিয়া ইংল্যাণ্ডের একটা ম্যাচ চলছে তখন। অস্ট্রেলিয়ান ইনিংস। বেলা শেষের দিকে উইকেটের টার্ণ কাজে লাগিয়ে স্পিনাররা বল করছেন। এরকমই এক ঘূর্ণীবলে মারতে যাবার আগে পা পিছলে পড়ে গেলেন ব্যাটসম্যান আর বল গিয়ে আঘাত করলো ঠিক তার মাথায়। স্ট্যাম্পের সামনে ঠ্যাঙ থাকলে এলবিডব্লিউ দেয়া যায়, মাথা থাকলে কি আউট দিবে আম্পায়াররা?
এই নিয়ে রীতিমতো হাউকাউ। আউট হয়েছে এটা কনফার্ম শুধু টাইপটা নিয়েই জটলা। পরে অনেক হুমড়িতুমড়ির পর ঠিক হলো, ‘এইচবিডব্লিউ’। ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই একমাত্র ‘এইচবিডব্লিউ’ আউট, মানে “হেড বিফোর দ্যা উইকেট!”।।


এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেল। তাদের নাবালক মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করা হল, তুমি কার সঙ্গে থাকতে চাও, মায়ের সঙ্গে?
মেয়েটি বলল, না, মা বড্ড পেটায়!
তাহলে বাবার সঙ্গে?
না, বাবাও ভীষণ পেটায়!
তাহলে কার সঙ্গে থাকতে চাও?
বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমের সঙ্গে। ওরা ভারী ভালোমানুষ, চাইলেও পেটাতে পারে না!


হ্যালো, আশরাফুল আছে? আমি ওর ফ্রেন্ড বলছি!
: আমি আমি বাংলাদেশের  দলের টিম ম্যানেজার বলছি। আশরাফুল তো এইমাত্র ব্যাট করতে মাঠে নামল। আপনি একটু কষ্ট করে পরে আবার ফোন করুন!

: না, না, আমি ধরছি! আশরাফুল এখনই ফিরে আসবে!


এক দুর্দান্ত ফাস্ট বোলারের সামনে কোনো ব্যাটসম্যানই টিকতে পারছিল না। সাত নম্বর ব্যাটসম্যান মাঠের দিকে যাবার সময় প্যাভিলিয়নের গেট দিয়ে বেরিয়ে আবার গেটটাকে আটকাতে যাচ্ছিল, তখন ভিড়ের ভেতর থেকে একজনের জোর গলার মন্তব্য, খামোখা কষ্ট করছেন কেন দাদা? একটু পরেই তো ফিরবেন, তখন না হয় আটকে দেবেন!


এক লোক সবসময় ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকে। একদিন তার বৌ গোমড়া মুখে তাকে বলল, তোমার শুধু সবসময় ক্রিকেট আর ক্রিকেট ! তুমি তো বোধহয় আমাদের বিয়ের তারিখটাও বলতে পারবে না!

লোকটি লাফিয়ে উঠে বলল, ছি ছি, তুমি আমাকে কী মনে কর! আমি কি এতই পাগল নাকি? আমার ঠিকই মনে আছে, যেবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ইন্ডিয়ার খেলায় টেন্ডুলকর এগার রানের মাথায় মুত্তিয়া মুরলিথরনের বলে আউট হয়ে গেল, সেদিনই তো আমাদের বিয়ে হল!


এক গ্রামের দাওয়াতে সেখানে বড় বড় দুই দল ক্রিকেট খেলতে গেল। দেখা গেল, সবই আছে, শুধু নেই একজন আম্পায়ার। সেই ভিড়ের গ্রাম্য লোকজনদের ভেতর থেকেই একজন আনকোরা আম্পায়ার খুঁজে বের করা হল। তাকে সাদা সার্ট-প্যান্ট, কোট পরানো হল। তারপর সে এক দলের ক্যাপ্টেনের কাছে এল, বলল, এবার আমাকে একটু খেলার নিয়মকানুন শিখিয়ে দিন!
ক্যাপ্টেন বলল, নিয়মকানুন! খুবই সহজ! এখন আমাদের দল বল করছে। আমাদের ফিল্ডাররা যখন সবাই একসঙ্গে ‘হাউজ দ্যাট’ বলে চেঁচিয়ে উঠবে, তখন তুমি তোমার এক আঙ্গুল উঁচিয়ে হাতটা তুলে ধরবে। আপাতত এটুকুই শিখে রাখ, আমরা যখন ব্যাটিং করতে নামব, তখন বাকিটুকু শিখিয়ে দেব!


এক ক্রিকেট ভিজিটিং টিম গ্রামে গিয়েছিল সেখানকার লোকদের আয়োজনে এক ক্রিকেট খেলা দেখতে। সেখানে গিয়ে তারা দেখে, সেখানে কোনো স্কোরবোর্ডের ব্যবস্থা নেই । টিমের লোকজন তখন সেই গ্রাম্য আয়োজকদের জিজ্ঞেস করল, আপনারা কোনো স্কোরবোর্ড রাখেন নি, তাহলে খেলার হিসেব রাখেন কী করে?

একজন আয়োজক দাঁত বের হেসে জানাল, দুই দলই মনে মনে হিসেব রাখে, তারপরও যদি দু-একদিন মতান্তর হয়, তখন হাতের কাছে লাঠিসোটা যা কিছু পায়, তাই নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে একটা মীমাংসা করে ফেলে!


এক স্লিপের ফিল্ডার সারাদিনের খেলায় কমসে কম আটটা ক্যাচের বল হাত থেকে ফেলে দিয়েছে। সেই খেলায় হেরে যাবার পর ম্লান মুখে সবাই বসে আছে, এমন সময় সেই ফিল্ডার ক্যাপ্টেনের কাছে ছুটি চাইতে এল। বলল, আমাকে এখনই ছুটি দিতে হবে, সন্ধ্যা ছটার ট্রেনে বাড়ি যাব, টিকেট কেটে রেখেছি!

ক্যাপ্টেন বিরস বদনে তার দিকে তাকিয়ে বলল, ছুটি দিতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু ট্রেনটা ধরতে পারবে তো?


একবার স্বর্গের দেবতারা আর নরকের শয়তানেরা মিলে ক্রিকেট খেলবে বলে ঠিক করল। স্বর্গের দেবতারা খেলায় জিত নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী, কারণ সব ভালো ভালো ক্রিকেটাররা স্বর্গে তাদের সঙ্গেই আছেন। কিন্তু শয়তানদের এই নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত দেখা গেল না। তাদের নিশ্চিন্ত ভাবভঙ্গি দেখে এক দেবতা এক শয়তানকে ডেকে বলল, কী ব্যাপার, ভালো ভালো ব্যাটসম্যান তো সব আমাদের এখানে, কিন্তু তোমাদেরকে বিশেষ চিন্তিত মনে হচ্ছে না! শয়তান সঙ্গে সঙ্গে দাঁত বের করে শয়তানি হাসি দিয়ে বলল, তোমাদের যতই ব্যাটসম্যান থাকুক, আম্পায়ারগুলো তো সব আমাদের এখানে!


এক দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান এক ফাস্ট বোলারকে অ্যায়সা নাজেহাল করে সমানে ছয়-চার পেটাচ্ছিল। এমন সময় প্যাভিলিয়ন থেকে একজন দৌড়ে এসে তার কানে কানে কী যেন বলে যাওয়ার পর থেকেই ব্যাটসম্যানের খেলা পড়ে গেল। তাকে খুব অধৈর্য দেখাচ্ছিল। ফাস্ট বোলার তার বল করার আগে আস্তে আস্তে যখন তার দৌড় শুরু করার জায়গায় যাচ্ছিল, তখন ব্যাটসম্যান চেঁচিয়ে আম্পায়ারকে বলল, আমার বাড়ি থেকে এইমাত্র খবর এসেছে আমার স্ত্রী খুবই অসুস্থ, সে আমাকে এখনই দেখতে চায়। আম্পায়ার সাহেব কি দয়া করে ঐ হতভাগা বোলারটাকে একটু বলবেন, সে যেন তার দৌড়ের জায়গাটাকে আরো একটু ছোট করে!


ব্যাটসম্যান ছক্কা পেটাবার পর বলটা দর্শকদের ভিতরে গিয়ে পড়েছিল। একজন ফিল্ডার আস্তে আস্তে দৌড়ে গেল সেদিকে। বলটা ফেরত চাইল। কিন্তু বলটা কিছুতেই খুঁজে পাওয়া গেল না। দর্শকদের ভেতর বসে ছিল এক কমবয়েসী ছোকরা। সে খুব নিরীহ মুখে জানাল, আমার মনে হয়, বলটা বোধহয় এদিকে পড়ে নি। তবে আমি বাড়ি থেকে একটা বল নিয়ে এসেছি, আপনার খুব প্রয়োজন হলে একশ টাকা দিয়ে সেটা কিনতে পারেন। নেবেন?


একটা বিতর্কিত রানআউটের পর আউট হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান প্যভিলিয়নের দিকে ফিরে যাচ্ছিল, আম্পায়ারের পাশ দিয়ে যাবার সময় সে বলল, দেখুন, আমি কিন্তু সত্যি সত্যি আউট ছিলাম না!
আম্পায়ার বলল, বটে! সত্যি নাকি মিথ্যা, সেটা কালকের পত্রিকাতেই জানতে পারবে!


খানিক আগেই আউট হয়ে যাওয়া এক ব্যাটসম্যান প্যাভিলয়নে বসে দেখছিল তার দল ক্রমশই হেরে যাচ্ছে। খেলা দেখতে দেখতে সে মুখ গোমড়া করে বসে আছে, এমন সময় তার এক বন্ধু এসে কানে কানে বলল, দোস্ত, একটা খুবই খারাপ খবর আছে, তোর বাড়িতে আগুন লেগে সারা বাড়ি পুড়ে ছাই, তোর ছেলে-মেয়ে-বৌ রাস্তার ওপরে বসে হাপুস নয়নে কাঁদছে!
ব্যাটসম্যান বিষণ মুখে তার দিকে ফিরে বলল, আমি এর থেকেও একটা খারাপ খবর তোকে দিতে পারি! আমাদের লাস্ট ব্যাটসম্যান এইমাত্র আউট হয়ে গেল!


দুই ব্যাটসম্যান একজন আরেকজনকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। দুজনেরই ভেতরেই সবসময় চাপা রেষারেষি কাজ করে। একদিন তারা পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছিল। কথায় কথায় একজন বলল, স্থানীয় এক ক্লাব আমাকে একটা অন্যরকম প্রস্তাব দিয়েছে। তারা চায় আমি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে জয়েন করে খারাপ খেলে তাদেরকে যেন জিতিয়ে দেই। এজন্য তারা আমাকে বিরাট অঙ্কের টাকা অফার করেছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না, কাজটা ঠিক হবে কিনা!

দ্বিতীয়জন সঙ্গে সঙ্গে বলল, এত চিন্তা করার কী আছে, তুমি তো বিনা পয়সাতেই এই কাজটা বরাবরের মতো করে আসছ!